০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দিল্লি Delhi Gang Rape: কী হয়েছিল সেদিন পার্কের মধ্যে? পুলিশকে বয়ান দিতে গিয়ে শিউরে উঠল নাবালিকা!
দিল্লিভারতবর্ষভারতবর্ষ

Delhi Gang Rape: কী হয়েছিল সেদিন পার্কের মধ্যে? পুলিশকে বয়ান দিতে গিয়ে শিউরে উঠল নাবালিকা!

Share
Delhi Gang Rape: কী হয়েছিল সেদিন পার্কের মধ্যে? পুলিশকে বয়ান দিতে গিয়ে শিউরে উঠল নাবালিকা!
এই পার্কেই ধর্ষণ করা হয় নাবালিকাকে। ফা্ইল ছবি
Share

নয়াদিল্লি: ১৭ বছরের একটা মেয়ের কাছে তাঁর জন্মদিনটি কেমন হতে পারতো? 

আনন্দ, হাসি, বন্ধুদের সাথে হুল্লোড় আর ঈশ্বরের আশীর্বাদ চাওয়ার এক নিষ্পাপ দিন। কিন্তু দিল্লির রাস্তায় সেই জন্মদিনের সন্ধ্যাই নেমে এল এক অবর্ণনীয় অন্ধকার ও রক্ত হিম করা বিভীষিকা হিসেবে। কালকাজী মন্দিরে পুজো দিয়ে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ইসকন মন্দিরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। 

মাঝে একটু জিরিয়ে নেওয়ার ভুল সিদ্ধান্তেই যেন নেমে এল জীবনের সবচেয়ে বড় নরকযন্ত্রণা। দিল্লির নামজাদা আস্থা কুঞ্জ পার্কের নিরিবিলি কোণে ভুয়ো পুলিশ সেজে, বন্দুক ও ছুরির মুখে ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করল তিন দুষ্কৃতী। ঘটনার ভয়াবহতা ও নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছে পুরো রাজধানী।

পুলিশের কাছে দেওয়া ১৭ বছরের ওই নির্যাতিতার বয়ান থেকে জানা গিয়েছে ঘটনার একের পর এক গা শিউরে ওঠা বর্ণনা। সেদিন ছিল তাঁর জন্মদিন। বিকেল পাঁচটা নাগাদ নিজের বড় বোনকে জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। 

বিকেল পৌনে ছ’টা নাগাদ কালকাজী মন্দিরে পৌঁছান নিজের এক বন্ধুর সঙ্গে। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে এক প্যাকেট চিপস আর জলের বোতল কিনে তারা সিদ্ধান্ত নেয় কাছেই আস্থা কুঞ্জ পার্কের ভেতর গিয়ে কিছুক্ষণ বসবেন। 

তারপর সেখান থেকে সোজা যাবেন ইসকন মন্দিরে দর্শনের জন্য। পার্কের ভেতরে দোলনার কাছে একটি বেঞ্চে বসে সবে চিপসের প্যাকেটটি খুলেছিল দু’জনে, ঠিক তখনই পিছন থেকে তাদের ঘিরে ধরে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তিন জন ব্যক্তি।

কথা নেই, বার্তা নেই, এসেই কিশোরীর বন্ধুকে সজোরে চড় মারে তারা। ভয় পেয়ে তারা পরিচয় জানতে চাইলে দুষ্কৃতীরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, “আমরা পুলিশ। এই অসময়ে এখানে কেন এসেছিস? এখানে ঢোকা নিষেধ।” 

এর পরেই কেড়ে নেওয়া হয় দু’জনের মোবাইল ফোন। মুহূর্তের মধ্যে ভয় পেয়ে গিয়ে কিশোরী কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তাদের আকুতি জানান, “স্যর, যা বলার এখানেই বলুন, দয়া করে আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলুন।” কিন্তু দুষ্কৃতীদের মাথায় তখন ঘোর অন্যায় বুদ্ধি।

নির্যাতিতার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান, বেগুনি শার্ট পরা এক দুষ্কৃতীকে উদ্দেশ্যে করে অন্য একজন বলে ওঠে, “আসিফ ভাই, বন্দুকটা বার কর তো!” সঙ্গে সঙ্গে জিন্সের পকেট থেকে কাল রঙের একটি রিভলভার বের করে দেখায় আসিফ নামের ওই যুবক। 

এরপর বাকি দু’জন বের করে ধারালো ছুরি। বন্দুক ও ছুরির মুখে বন্ধুকে আলাদা করে দিয়ে কিশোরীকে টেনে হিঁচড়ে পার্কের এক গা ছমছমে, অন্ধকার নির্জন কোণে নিয়ে যায় তারা। সেখানেই এক এক করে তিন দুষ্কৃতী যৌন নির্যাতন চালায় অসহায় মেয়েটির উপর। 

কিশোরীর কথায়, “আমি হাউহাউ করে কাঁদছিলাম, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলাম, কিন্তু ছুরি উঁচিয়ে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল।”

পৈশাচিক অত্যাচার চালানোর পর মেয়েটির গায়ে জামাকাপড় ছুঁড়ে ফেলে দেয় অপরাধীরা। ডেকে আনা হয় আটক করে রাখা বন্ধুকেও। হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন। পার্ক ছাড়ার আগে দেওয়া হয় শেষ হুমকি, “এখান থেকে সোজা পালিয়ে যা, কাউকে কিছু বললে একবারে মেরে পুঁতে দেব!” 

রক্তাক্ত ও স্তব্ধ অবস্থায় পার্ক থেকে বেরিয়ে কেঁদে ফেলে মেয়েটি, জানায় পুরো ঘটনার কথা। কালবিলম্ব না করে তাঁর বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে পুলিশকে।

তদন্তে নেমে দ্রুত পুলিশ গ্রেফতার করেছে তিন অভিযুক্তকেই। আসিফ, হেমন্ত এবং তার ছোট ভাই মুকেশকে। আশ্চর্যজনকভাবে, অভিযুক্তদের মধ্যে হেমন্ত একজন পেশায় আইনজীবী এবং মুকেশ বি.এসসি গণিতের শেষ বর্ষের ছাত্র! 

অন্যদিকে আসিফকে ধরতে লেডি শ্রী রাম কলেজের পেছনের গেটের কাছে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। এনকাউন্টারে আসিফের পায়ে গুলি লাগলে তাকে কব্জা করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পার্কের আশেপাশেই থাকত ও কাজ করত এই তিন অপরাধী। কিন্তু আইন ও সুরক্ষার রক্ষক পুলিশ সেজে জন্মদিনের শুভ দিনে এক নাবালিকার জীবন এভাবে ছারখার করে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *