০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দিল্লি প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে খুন ! তদন্তে নেমে ১০ মিনিটে ১০৭ বার লাঠি, বিতর্কে গুজরাত পুলিশ
দিল্লিভারতবর্ষভারতবর্ষ

প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে খুন ! তদন্তে নেমে ১০ মিনিটে ১০৭ বার লাঠি, বিতর্কে গুজরাত পুলিশ

Share
প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে খুন ! তদন্তে নেমে ১০ মিনিটে ১০৭ বার লাঠি, বিতর্কে গুজরাত পুলিশ
এই ভাবে অভিযুক্তকে পিটিয়ে বিতর্কে গুজরাত পুলিশ। ছবি : এক্স
Share

ভাবনগর: লিভ-ইন সঙ্গিনীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘোরানোর অভিযোগে তীব্র বিতর্কে জড়াল গুজরাত পুলিশ। সর্বোচ্চ আদালত ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অভিযুক্তের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নিলমবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা ডি.পি. উন্দাড়কটের বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৩ সেপ্টেম্বর ভাবনগর এসটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ৪০ বছর বয়সী কাজলবেন নামের এক নারীর সঙ্গে বচসায় জড়ান তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী, ২০ বছর বয়সী ফৈজল ওরফে খাটকি রফিকভাই লাখানি। বচসার জেরে ফৈজল চরম উত্তেজিত হয়ে কাজলবেনকে মাটিতে ফেলে মাথা, ঘাড় ও মুখে মারধর করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ফৈজলকে গ্রেপ্তার করে।

বিতর্কের সূত্রপাত ঘটনার পুনর্নির্মাণের দিন। অভিযুক্তকে দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অপরাধের পুর্নগঠন করানোর সময় নিলমবাগ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর ডি.পি. উন্দাড়কট তাকে দড়ি দিয়ে বাঁধেন এবং মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ১০৭ বার লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। প্রকাশ্যে অভিযুক্তকে এভাবে মারধর ও অবমাননাকরভাবে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্তদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার রোধ করতে শীর্ষ আদালতের একাধিক নির্দেশিকা রয়েছে। বিখ্যাত ‘ডি. কে. বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, পুলিশ হেফাজতে বা প্রকাশ্যে কোনো অভিযুক্তকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া, গুজরাতের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি ড. কে. এল. এন. রাও-এরও নির্দেশ ছিল যে, কোনো অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে ঘোরানো বা হেনস্থা করা হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের এই সমস্ত নিয়ম ও আইনকানুন তুচ্ছ করে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্তার নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার ঘটনায় গুজরাত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আইন ভাঙার এই ঘটনা আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের জন্য বড় আইনি বিপাকের কারণ হতে পারে।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *