০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ Guwahati Crime: স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু ফ্রিজে রেখে প্রেমিককেও খুনের হুমকি! চলন্ত পুলিশভ্যান থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু অসমের সেই যুবকের
অপরাধভারতবর্ষ

Guwahati Crime: স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু ফ্রিজে রেখে প্রেমিককেও খুনের হুমকি! চলন্ত পুলিশভ্যান থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু অসমের সেই যুবকের

Share
Guwahati Crime: স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু ফ্রিজে রেখে প্রেমিককেও খুনের হুমকি! চলন্ত পুলিশভ্যান থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু অসমের সেই যুবকের
চলন্ত পুলিশভ্যান থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু অসমের সেই যুবকের। ছবি-সংগৃহীত
Share

গুয়াহাটি, ১৪ সেপ্টেম্বর: স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়ে শহর জুড়ে যে আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছিল, সেই ভয়াল কাহিনীর অভিযুক্তের জীবনপ্রদীপ নিভে গেল পাহাড়ি খাদে পড়ে। অসমের গুয়াহাটিতে স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী রামানজু গোস্বামীর ঝুলিতে ছিল পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চরম পরিকল্পনা। তবে সোমবার ভোরে সেই চেষ্টা চালাতে গিয়ে পুলিশের চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে পাহাড়ি খাদে পড়ে মৃত্যু হলো তাঁর। অসম পুলিশের এই আকস্মিক ঘটনার খবরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে।

পুলিশের তদন্ত ও বয়ান অনুযায়ী, স্ত্রীকে নিয়ে তীব্র মানসিক সন্দেহ আর ক্ষোভ থেকে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ২৫ বছরের রিয়া তালুকদার পরপুরুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত— এই অনুমানের বশে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের গুয়াহাটির বাসভবনে স্ত্রীকে খুন করেন রামানুজ। ঘটনার পর দেহের একাধিক অঙ্গ এবং কাটা মাথা একটি রেফ্রিজারেটরের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। ৬ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বিকট দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করার পরই নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ।

জেরায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে থাকে। হেফাজতে পাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ যখন তদন্তের স্বার্থে রামানুজকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়, সেখানে তাঁর চোখেমুখে অনুশোচনার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিল না। উল্টে পুলিশকে জানান, শ্রীঘর থেকে বের হতে পারলে স্ত্রীর সেই তথাকথিত প্রেমিককেও চরম শিক্ষা দেবেন এবং খুন করবেন। তদন্তকারীরা ঘর থেকে উদ্ধার করেন প্রচুর মদের খালি বোতল এবং রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র। রামানুজ স্বীকার করেছিলেন, অতিমাত্রায় মদ্যপ অবস্থাতেই এই বীভৎস ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন তিনি।

সাত দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষ হওয়ার মুখে সোমবার ভোরে তাঁকে রুটিন স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে ফেরার পথেই বাধে চরম বিপত্তি। নরকাসুর পাহাড়ি এলাকায় গাড়ির ভেতর থাকা পুলিশকর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান রামানুজ। হস্তচালিত আক্রমণের সুযোগে নিজেকে মুক্ত করে চলন্ত গাড়ি থেকেই সরাসরি ঝাঁপ মারেন বাইরে। কিন্তু রাস্তার ধারে থাকা খাড়া পাহাড়ি খাদে গড়িয়ে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চরম নৃশংসতার এই মামলার মূল অপরাধীর অকালমৃত্যুতে থমকে গেল তদন্তের পরবর্তী ধাপ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *