০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ Honeymoon Horror: সিটঙের হোমস্টেতে বার্বিকিউ ট্র্যাজেডি, গ্রেফতার মালিক-সহ ৪, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই
পশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গশিলিগুড়ি

Honeymoon Horror: সিটঙের হোমস্টেতে বার্বিকিউ ট্র্যাজেডি, গ্রেফতার মালিক-সহ ৪, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

Share
Honeymoon Horror: সিটঙের হোমস্টেতে বার্বিকিউ ট্র্যাজেডি, গ্রেফতার মালিক-সহ ৪, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই
দুর্ঘটনার ঠিক আগের ছবি।
Share

শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াং: পাহাড়ি মনোরম পরিবেশে মধুচন্দ্রিমার আনন্দ যে মুহূর্তে এমন ভয়ঙ্কর বিভীষিকায় পরিণত হতে পারে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার নবদম্পতি। সিটঙের এক হোমস্টেতে বার্বিকিউ উপভোগ করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ২৪ বছর বয়সি গৃহবধূ নিকিতা সাহা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় চরম গাফিলতি ও অসহযোগিতার অভিযোগে হোমস্টের মালিক নেহাল আজরান, দেখভালের দায়িত্বে থাকা পবন কুমার আগারওয়াল, কর্মচারী দীপেন লামা এবং নাসির উদ্দিন নামে মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে প্রথম তিন জন কার্শিয়াঙের এবং নাসির উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা।

কার্শিয়াঙের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) অনিন্দ্যসুন্দর ভট্টাচার্য জানান, “গৃহবধূর স্বামীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয় এবং গাফিলতির প্রমাণ মিলতেই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।”

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, চোপড়ার বাসিন্দা সৌভিক দাস ও নিকিতা সাহার ৮ বছরের প্রেমের সম্পর্ক চলতি বছরের জুলাই মাসে পরিণতি পায়। বিয়ের পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর মধুচন্দ্রিমায় সিটঙের একটি হোমস্টেতে গিয়ে ওঠেন তাঁরা। সেখানে রাতে তাঁদের জন্য বার্বিকিউয়ের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, দম্পতি আগুনের সামনে বসে থাকার সময় তাপ বাড়াতে এক অদক্ষ কর্মী তাতে তরল তারপিন তেল বা দাহ্য পদার্থ ঢেলে দেন। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণের মতো দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুনের বড় শিখা। তাতেই শরীর পুরো ঝলসে যায় নিকিতার। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে সৌভিকের হাতও পুড়ে যায়। নিকিতার শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর হোমস্টে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম উদাসীনতার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সৌভিক। তাঁর দাবি, “দগ্ধ স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা গাড়ির আকুতি-মিনতি করছিলাম। কিন্তু হোমস্টে কর্তৃপক্ষের যেন কোনও হুঁশই ছিল না! দুর্ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা পর একটা গাড়ি মেলে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ওই বিপদের সময় হোমস্টের কোনও কর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে হাসপাতালে যাননি। একা হাতেই মারাত্মক আহত স্ত্রীকে নিয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে হয়।” সৌভিক আরও জানান, চিকিৎসায় কোনও সাড়া মিলছে না বললেই চলে। শুক্রবার সামান্য কথা বলতে পারলেও শনিবার থেকে নিকিতা সেই স্বর ও ক্ষমতাও হারিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অবস্থা খানিকটা স্থিতিশীল না হলে তাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, নিজেদের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে হোমস্টে কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দম্পতির সঙ্গে যে তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে, তিনি তাঁদের কর্মচারী নন। দম্পতি অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তাঁকে কেরোসিন ঢেলে আগুন বাড়াতে বলেছিলেন এবং নাইলনের পোশাক পরায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে ড্রাম থেকে দাহ্য পদার্থ ঢালার দৃশ্য স্পষ্ট এবং অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে এমন বিপজ্জনক কাজ করানোর দায় হোমস্টে এড়াতে পারে না। গোটা ঘটনায় পাহাড়ি পর্যটনের সুরক্ষা ও হোমস্টে পরিচালনার গাফিলতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *