০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home খেলা ক্রিকেট Asia Cup 2026: এশিয়া কাপ জিতে ফের মহসিন নকভিকে বয়কট ভারতের
ক্রিকেটখেলাখেলা

Asia Cup 2026: এশিয়া কাপ জিতে ফের মহসিন নকভিকে বয়কট ভারতের

Share
Asia Cup 2026: এশিয়া কাপ জিতে ফের মহসিন নকভিকে বয়কট ভারতের
দুবাইয়ে এশিয়া সেরা ভারত। ছবি : বিসিসিআই
Share

দুবাই:  ২২ গজে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের জন্য এশিয়া কাপের খেতাব নিজেদের নামে করে নিল ভারত। কিন্তু মাঠের সেই দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক জয়ের পর দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আবারও ফিরল চরম নাটকীয়তা ও বিতর্ক। 

এক বছর আগে ঠিক যেভাবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করা হয়েছিল, রবিবারের ফাইনালেও ঘটল ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে নকভিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দ্বিতীয়বারের জন্য চরম বার্তা দিল ভারতীয় শিবির।

ফাইনাল ম্যাচ শেষের পর মাঠের উল্টো ছবি নজর কাড়ল ক্রীড়ামহলের। মূল মঞ্চে যখন মহসিন নকভি ও এসিসির অন্য আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন, তখন ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের কাউকেই মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ড্রেসিংরুমের কাছে নিজেদের এক অভ্যন্তরীণ ছোটখাট উদযাপনেই মেতে ওঠে জয়ী ভারত। 

সেখানে বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া এবং সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা দলের অভ্যন্তরীণ ‘সেরা ফিল্ডার’-এর পদক তুলে দেন নন্দিনী শর্মার হাতে। প্রধান কোচ অমোল মজুমদারও সেখানেই গোটা দলকে অভিনন্দন জানান। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক চামারি আথাপাত্তুর হাতে রানার্স-আপ চেক তুলে দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় নকভিকে। গত বছরের মতোই এ বছরও উইমেন্স এশিয়া কাপের চকচকে ট্রফিটি অধরাই থেকে যায় বিজয়ী ভারতীয় দলের কাছে, যা বর্তমানে রাখা রয়েছে দুবাইয়ের এসিসি দফতরে।

পুরস্কার বিতরণী পর্বের এই অভাবনীয় ঘটনার পরেই ভারতের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। তিনি সরাসরি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব, সাধারণ মানুষের আত্মসম্মান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাটাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। 

পহেলগাম হামলা ও পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন পুরোপুরি বরফশীতল, তখন একটি বৈরিতা পোষণকারী দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক প্রতিনিধির হাত থেকে জয়ীয় ট্রফি নেওয়া সম্ভব নয়। 

সাইকিয়া স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সম্মান ও আবেগের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। পুরুষ দল এক বছর আগে যে কঠিন অবস্থান নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কাজ করা যায় না। ভারতীয় বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি একদম স্পষ্ট ও ধারাবাহিক।

বিসিসিআই সচিব আরও খোলসা করেন যে, এই বিতর্ক এড়াতে আগেভাগেই একটি সহজ প্রস্তাব এসিসিকে দেওয়া হয়েছিল। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নকভির বদলে এসিসির সহ-সভাপতি বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা যেন ট্রফি তুলে দেন। 

কিন্তু সেই প্রস্তাব গুরুত্ব না পাওয়ায় ভারতীয় দল নিজ অবস্থানে অনড় থাকে। দেবাজিৎ সাইকিয়া বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে যা কিছু ঘটছে তা কারও অজানা নয়। সুতরাং সবকিছু ঠিকঠাক আছে বলে অভিনয় করার কোনো মানে হয় না।

দলের প্রধান কোচ অমোল মজুমদারও প্রেস কনফারেন্সে বোর্ডের সিদ্ধান্তকেই পূর্ণ সমর্থন জানান। তাঁর কথায়, ভারত সরকারি ও প্রশাসনিক সব দিক থেকেই এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন। ট্রফি হাতে এল কি এল না, তাতে জয়ের ঐতিহাসিক সত্যিটা বদলে যায় না। বোর্ড যে জাতীয় নীতি গ্রহণ করেছে, দল পুরোপুরি তার সঙ্গেই রয়েছে।

মাঠে দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ‘নো-হ্যান্ডশেক’ প্রটোকল পালন করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। আর প্রশাসনিক মঞ্চেও নকভিকে বয়কট করে ভারত আবারও প্রমাণ করল যে, স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় রেখে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও জাতীয় নীতি ও সম্মানের জায়গায় কোনও ধরনের আপস করা হবে না।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *