০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা দক্ষিণ দমদমে অদিতি-দেবরাজ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, দানা বাঁধছে রহস্য!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

দক্ষিণ দমদমে অদিতি-দেবরাজ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, দানা বাঁধছে রহস্য!

Share
দক্ষিণ দমদমে অদিতি-দেবরাজ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, দানা বাঁধছে রহস্য!
ছবি: সংগৃহীত
Share

কলকাতা: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে নাগেরবাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার না হওয়ায় এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:9403]

স্থানীয় সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে (সিআইসি) কর্মরত সঞ্জয় দাস এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী বলে পরিচিত ছিলেন। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন তিনি। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, পুরসভার ভোটে টিকিট পাওয়া থেকে শুরু করে পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ — সব ক্ষেত্রেই সঞ্জয়ের পিছনে দেবরাজের বড় ভূমিকা ছিল। সমাজমাধ্যমেও নিয়মিত অদিতির সমর্থনে প্রচার চালাতেন সঞ্জয়।

[TECHTARANGA-POST:9392]

সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর নজরে রয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। কিছুদিন আগেই এই তদন্তের সূত্রে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। পাশাপাশি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সুজিত বসুর সঙ্গে সঞ্জয় দাসের যোগাযোগ ছিল। ফলে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির সাম্প্রতিক এই তৎপরতার সঙ্গে কাউন্সিলরের মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়ে ইতিউতি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

[TECHTARANGA-POST:9378]

অন্যদিকে, সম্পত্তির খতিয়ান ঢাকা দেওয়ার অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন অদিতি ও দেবরাজ। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর উদ্দেশ্যে নির্বাচনের আগে বেনামে এবং আত্মীয়দের নামে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট মৌখিক ভাবে জানিয়েছে, আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁকে এবং স্বামীকে গ্রেফতার করা যাবে না। আদালতে অদিতিদের পক্ষে আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল করা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে।

[TECHTARANGA-POST:9402]

তারই মাঝে স্থানীয় একাংশের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সঞ্জয় দাস। গত কয়েক দিন ধরে সেই অবসাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে, অবসাদের প্রকৃত কারণ ব্যক্তিগত নাকি সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক ও আইনি চাপ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *