০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মেঝেতে বসে বিক্ষোভ শোভনদেব-বিমানদের! বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর নিয়ে নজিরবিহীন সংঘাত
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

মেঝেতে বসে বিক্ষোভ শোভনদেব-বিমানদের! বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর নিয়ে নজিরবিহীন সংঘাত

Share
মেঝেতে বসে বিক্ষোভ শোভনদেব-বিমানদের! বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর নিয়ে নজিরবিহীন সংঘাত
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেলেও মেটেনি শাসক ও বিরোধী শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ। এবার বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট ঘর পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এক নজিরবিহীন ও চরম সংঘাতের রূপ নিল। শুক্রবার দুপুরের দিকে বিধানসভা চত্বরে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়, যখন দেখা যায় খোদ বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিকরা দলবল নিয়ে বিধানসভার বারান্দায়, বন্ধ ঘরের সামনে মেঝেতে বসেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। তৃণমূলের একঝাঁক বিধায়কের এই আকস্মিক অবস্থানে কার্যত থমথমে হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর।

[TECHTARANGA-POST:9380]

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, দলের পরিষদীয় সিদ্ধান্ত স্পষ্ট জানিয়ে আগেই বিধানসভার সচিবালয় এবং অধ্যক্ষের কাছে নির্দিষ্ট ঘরের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা সচিবালয় সূত্রের দাবি ছিল, প্রথম চিঠিতে কতজন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তা স্পষ্ট ছিল না। এই আইনি আপত্তির পর তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে আজ পুনরায় ৭০ জন জয়ী বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি নতুন রেজোলিউশনের প্রতিলিপি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও ঘরটি খুলে দেওয়া হয়নি। সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, নবনির্বাচিত স্পিকার বর্তমানে কোচবিহারে রয়েছেন এবং তিনি কলকাতায় ফিরলে তবেই ফাইল নড়বে। এই ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন স্পিকার তথা বর্তমান বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সচিবের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘বিধানসভার সচিব কীভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে এই ধরনের একতরফা অবস্থান ব্যক্ত করছেন? এতদিনের সংসদীয় রাজনীতিতে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। সচিবই কি তবে হাউস চালাবেন?’’ শাসক দলকে নিশানা করে তিনি মনে করিয়ে দেন, স্পিকার নির্বাচনের দিন তো সৌজন্য মেনে এই শোভনদেববাবুকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে আজ ঘর দেওয়ার নামে কেন এই টালবাহানা?

[TECHTARANGA-POST:9379]

এ দিনের এই হাই-ভোল্টেজ অবস্থান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, এটি দলের কোনও পূর্বঘোষিত বা পরিকল্পিত কর্মসূচি ছিল না। গতকালই সচিবালয়ের চাওয়া সমস্ত অতিরিক্ত তথ্য ও রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল। ফলে দলের বিধায়করা আশাবাদী ছিলেন যে আজ হয়তো ঘরটি খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু বিধানসভায় এসে ঘর বন্ধ দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সকলে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুলক রায়, অরূপ রায়-সহ বাকি ১৫-১৬ জন বিধায়ককে নিয়ে মেঝেতেই বসে পড়েন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ সংসদীয় জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে ক্ষুব্ধ শোভনদেববাবু একপ্রকার হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘‘আজকে শাসক দলের মনে হতে পারে আমরা সংখ্যায় মাত্র ৮০ জন। কিন্তু এই ৮০ জন যদি একসঙ্গে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে আওয়াজ তুলতে পারে, তবে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে।’’ তিনি আরও যোগ করেন, সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শাসক ও বিরোধী দুই আসনেই তিনি বসেছেন, কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে এমন অনভিপ্রেত এবং নজিরবিহীন অবস্থার সম্মুখীন তাঁকে কোনওদিন হতে হয়নি। স্পিকারের কলকাতা ফেরা এবং এই ঘর-জট কাটার ওপরই এখন নির্ভর করছে বিধানসভার পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *