হাওড়া: দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুরভোট হতে চলেছে হাওড়ায়! শুধু তা-ই নয়, পুরবোর্ড না থাকার সুযোগে বিগত বছরগুলোতে হাওড়া পুরনিগমে যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধেও এবার কড়া তদন্তের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বৃহস্পতিবার হাওড়া সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া এবং বালি পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন হবে। শেষবার ২০১৩ সালে হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালে। তারপর থেকে দীর্ঘ আট বছর ধরে কোনও নির্বাচিত পুরবোর্ড ছিল না এবং পুরপ্রশাসক বসিয়েই কাজ চালানো হচ্ছিল। এর ফলে নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বেআইনি নির্মাণ ও জলাশয় বুজিয়ে দেওয়ার মতো ভুরিভুরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। সেই ‘অরাজকতার’ দিন শেষ করতে এবার বদ্ধপরিকর নতুন সরকার।
[TECHTARANGA-POST:9333]
গণতন্ত্রে মানুষের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনগণের প্রতিনিধি ছাড়া সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু পুরপরিষেবার স্বাদ পেতে পারেন না। সেই কারণেই চলতি বছরেই ভোট করানোর জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভোটের পাশাপাশি ওয়ার্ডের ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়াও শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে দুর্গাপুরে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি নিজে বৈঠক করবেন বলেও জানান। তবে নির্বাচনের ঘোষণার পাশাপাশি আজ সবচেয়ে বড় ধামাকাটি ছিল পুরসভার অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা। হাওড়া পুরনিগমের সমস্ত কেলেঙ্কারি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি হাইপ্রোফাইল ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
[TECHTARANGA-POST:9332]
পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন নিয়েও আজ এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, হাওড়া পুরসভায় বর্তমানে প্রায় ১৭০০ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জন কর্মী কোনও কাজ না করেই মাসের পর মাস সরকারি কোষাগার থেকে বেতন তুলে নিচ্ছেন। এই ‘ভুয়ো’ কর্মীদের আসল সত্যিটা কী, তা জানতেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। একদিকে ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন ও ডিসেম্বরের ভোট, অন্যদিকে বেআইনি নির্মাণ ও ভুয়ো কর্মী ছাঁটাইয়ের কড়া তদন্তের এই সাঁড়াশি ঘোষণা ঘিরে আজ সকাল থেকেই হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।
Leave a comment