নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গেলেও ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া তথা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থামছে না। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, অন্তত ৩১টি আসনে জয়ের ব্যবধানের তুলনায় ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। অর্থাৎ, ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির।
[TECHTARANGA-POST:8989]
সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, ২৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। সেই নামগুলি বাদ রেখেই রাজ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আদালতে উদাহরণ দিয়ে বলেন, “তৃণমূলের এক প্রার্থী মাত্র ৮৬২ ভোটে হেরেছেন, অথচ সেই কেন্দ্রে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন এখনও বিচারাধীন।” তৃণমূলের দাবি, জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়ে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোটের ফলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
[TECHTARANGA-POST:8980]
তৃণমূলের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এখনই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যদি নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাবের বিষয় জানাতে হয়, তবে অতিরিক্ত আবেদন করে নতুন মামলা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট মিটে যাওয়ার পর এখন একমাত্র পথ হল ‘ইলেকশন পিটিশন’ দায়ের করা। বিবেচনাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগবে, সেই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে শীর্ষ আদালত।
[TECHTARANGA-POST:8976]
এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছিল। কিন্তু, সোমবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ট্রাইবুনালের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কাউকে তো কাজ করার জন্য বাধ্য করা যায় না।” অন্যদিকে, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি হতে ৪ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
[TECHTARANGA-POST:8945]
তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা ‘ইলেকশন পিটিশন’ করতে রাজি। তবে, সেখানে যেন এসআইআর-এর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এখন হাইকোর্টের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী পদক্ষেপ করবে।
Leave a comment