বহরমপুর: রাজনীতির আঙিনায় তিনি পরিচিত ‘ভোলবদলু’ হিসাবে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ফের নিজের সেই মেজাজই বজায় রাখলেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। ভোট শেষ হতেই তৃণমূলের দিকে ‘সন্ধি’র হাত বাড়ালেন তিনি! তবে শর্তহীনভাবে নয়! শাসকদলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত দাবি তুলেছেন হুমায়ুন।
[TECHTARANGA-POST:8680]
শনিবার বহরমপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর সাফ জানান, তৃণমূল যদি সরকার গঠনে তাঁর সহায়তা চায়, তবে তাদের বিশেষ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। হুমায়ুনের কথায়, “তৃণমূল যদি হাঁটু গেড়ে আমার কাছে ক্ষমা চায় এবং স্বীকার করে যে যা হয়েছে ভুল হয়েছে, দুর্নীতি করা ভুল হয়েছে – তবেই আমি তাদের সমর্থন করার কথা ভাবব।” তৃণমূলকে দুর্নীতির পথ ছাড়ার অঙ্গীকার করারও দাবি তুলেছেন তিনি।
[TECHTARANGA-POST:8667]
একদিকে সমর্থনের বার্তা দিলেও অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, “৪ মে-র পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুবাই চলে যাবে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে সংকীর্তন করবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:8575]
উল্লেখ্য, নির্বাচনের বেশ খানিকটা সময় আগে দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন হুমায়ুন। এরপর নিজের দল গড়ে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিলেও ভোটের আগেই তাঁর ৮০ জন প্রার্থী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। এর উপর তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে গোপন ‘ডিল’ সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ায় ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খায় হুমায়ুনের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের দলের এমন বেহাল দশার কারণেই এখন ফের তৃণমূলের দিকে ভিড়তে চাইছেন তিনি!
[TECHTARANGA-POST:8641]
বিরোধীদের এজেন্টদের নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে হুমায়ুন কবীর আরও জানান, তিনি বর্তমানে চুপচাপ আছেন এবং নির্বাচন কমিশনের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সোমবারের ফলপ্রকাশের পর হুমায়ুনের এই ‘শর্তসাপেক্ষ সন্ধি’ তৃণমূল গ্রহণ করে নাকি নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে বাংলার রাজনৈতিক মহলের।
Leave a comment