কলকাতা: কয়েক ঘণ্টা আগের সেই হাসিমুখ আজ চিরতরে স্তব্ধ। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সলিল সমাধি যেন টলিউডের অন্ধকার দিকটিকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করাল। দুর্ঘটনা নাকি অবহেলা? ৪৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাধর অভিনেতার অকাল প্রয়াণে এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হলেন তাঁর সহকর্মীরা। সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো প্রথম সারির অভিনেত্রীরা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন শুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
[TECHTARANGA-POST:7686]
রূপাঞ্জনা মিত্র তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় শিল্পীদের। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “আর কোনোভাবেই এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। তথাকথিত এই ইন্ডাস্ট্রি শিল্পীদের জন্য নিরাপদ নয়।” অন্যদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য সুদীপ্তা চক্রবর্তীও এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর মতে, শুটিং স্পটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন পর্যাপ্ত সুরক্ষাবিধি ছিল না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
[TECHTARANGA-POST:7684]
রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় জোয়ারের কবলে পড়ে তলিয়ে যান রাহুল। টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দিঘা থানায় ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার তমলুক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
২০০০ সালে ‘চাকা’ দিয়ে শুরু করে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেই আইকনিক সাফল্য— রাহুলের অভিনয় ক্ষমতা ছিল প্রশ্নাতীত। শুধু অভিনয় নয়, সাহিত্যচর্চা থেকে শুরু করে রাজনীতি, সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন স্পষ্টবক্তা। সম্প্রতি ছেলে সহজের কথা ভেবে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সাথে মান-অভিমান ভুলে আবারও একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। শুরু করেছিলেন নিজের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’। কিন্তু সেই সহজ কথাগুলো বলার মানুষটাই আজ অসময়ে পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। টলিপাড়া আজ শোকে পাথর, আর সেই শোকের আড়ালে জমছে একরাশ অমীমাংসিত প্রশ্ন।
Leave a comment