০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ১১৬ দিনের SIR আন্দোলন: তৃণমূলের ঝুলিতে লাভ না ক্ষতি? আজই মিলবে ইঙ্গিত!
পশ্চিমবঙ্গ

১১৬ দিনের SIR আন্দোলন: তৃণমূলের ঝুলিতে লাভ না ক্ষতি? আজই মিলবে ইঙ্গিত!

Share
Share

কলকাতা: গত বছর ৪ নভেম্বর রেড রোডে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের মাধ্যমে যে লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল, শনিবার তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘ ১১৬ দিনের আন্দোলন, আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর শনিবার – অর্থাৎ আজই প্রকাশিত হচ্ছে এসআইআর(SIR)-এর চূড়ান্ত অথচ সম্পূর্ণ নয়, এমন এক তালিকা! এই তালিকা প্রকাশের সঙ্গে-সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের গত কয়েক মাসের আন্দোলনের ফসল আদতে কতটা ঘরে উঠল।

[TECHTARANGA-POST:6823]

লাভ: চাঙ্গা সংগঠন ও দিদি-অভিষেক যুগলবন্দি

তৃণমূল শিবিরের অন্দরে কাটাছেঁড়া করলে লাভের পাল্লায় বেশ কিছু ভারী বিষয় উঠে আসছে। দলের একাংশের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোট ঘোষণার অনেক আগেই সংগঠনকে নির্বাচনী মেজাজে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:6805]

সাংগঠনিক মহড়া: নির্বাচনের ‘টেস্ট পরীক্ষা’ হিসাবে এই সময়কালকে ব্যবহার করেছে ঘাসফুল শিবির। প্রায় ১৫ লক্ষ কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন, যা বুথ স্তরের সংগঠনকে শক্তিশালী করেছে।

নেতৃত্বের সমন্বয়: এই আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘যুগলবন্দি’ দলের কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে। একদিকে মমতা যখন রাজপথে নেমে ‘বিরোধী নেত্রী’র মেজাজে আন্দোলনের সুর বেঁধেছেন, অন্যদিকে অভিষেক আইপ্যাক-এর সহায়তায় ডিজিট্যাল ও সাংগঠনিক তদারকি সামলেছেন।

অন্যান্য ইস্যু আড়াল: তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, এসআইআর এমন একটি ‘কার্পেট’ যার নীচে গত ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বা ছোটখাটো অন্য খামতিগুলি ঢাকা পড়ে গিয়েছে।

ক্ষতি: মেরুকরণ ও শহরাঞ্চলের সমীকরণ

লাভের উল্টো পিঠে কিছু দুশ্চিন্তার ভাঁজও রয়েছে শাসক শিবিরের কপালে।

আসনভিত্তিক উদ্বেগ: লোকসভা ভোটের নিরিখে রাজ্যের প্রায় ৫০টি আসনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত কম। এসআইআর-এর ফলে ভোটারতালিকার রদবদলে সেই আসনগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নিচুতলার অনেক নেতা।

মেরুকরণের ফাঁদ: বিজেপি এই সময়ে ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বকে সামনে রেখে জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে প্রচার চালিয়েছে, তাতে হিন্দু-মুসলিম ভোট মেরুকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত ও উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকায় এই হাওয়া তৃণমূলের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

শহরাঞ্চলের প্রভাব: গত লোকসভা নির্বাচনে বহু পুর এলাকায় বিজেপি এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূলের শক্তি মূলত বস্তিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষ। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নথি সংক্রান্ত জটিলতায় এই অংশের ভোটারদের নাম বাদ পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা শহুরে ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে।

কী বলছে রাজনৈতিক মহল?

তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, যা হয়েছে সবটাই তৃণমূলের লাভের খাতায়। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এখনই কোনও হিসাব কষতে নারাজ। তাঁর মতে, আগে তালিকা প্রকাশ হোক। তারপর দেখা যাবে কার কত শক্তি বাড়ল।

শনিবারের তালিকা সম্পূর্ণ না হলেও, এটিই হবে আগামী বিধানসভা যুদ্ধের আগে এক বড় মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের ফলাফল। তৃণমূলের ১১৬ দিনের এই ‘সংবিধান রক্ষা’র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *