০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কূটনীতি পহেলগাঁও হামলার জবাব, এবার ইরাবতীর জলেরও পাক-প্রবাহ বন্ধ করছে ভারত!
কূটনীতিভারতবর্ষ

পহেলগাঁও হামলার জবাব, এবার ইরাবতীর জলেরও পাক-প্রবাহ বন্ধ করছে ভারত!

Share
Share

নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসবাদ আর কূটনীতি যে একসঙ্গে চলতে পারে না, তা আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দিল ভারত। পহেলগাঁও হামলার ক্ষতে প্রলেপ দিতে এবার পাকিস্তানের ‘লাইফলাইন’ কাটার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিল নয়াদিল্লি। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার পর এবার ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে মোদী সরকার। জম্মু-কাশ্মীর ও পঞ্জাব সীমান্তে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ সম্পন্ন করে ৩১ মার্চের মধ্যেই পাকিস্তানের দিকে বয়ে যাওয়া জলধারা আটকে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:6549]

গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের কাপুরুষোচিত হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরই নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছিল, বন্ধুত্বের বাতাবরণ নষ্ট করলে তার মূল্য চোকাতে হবে ইসলামাবাদকে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ইরাবতী, শতদ্রু এবং বিপাশার জলের উপর ভারতের পূর্ণ অধিকার থাকলেও, এত দিন উদারতা দেখিয়ে অতিরিক্ত জল পাকিস্তানকে পেতে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু, পহেলগাঁও হামলার পর সেই ‘উদারতা’র যুগ শেষ।

জম্মু ও কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা সাফ জানিয়েছেন, ৩১ মার্চের মধ্যে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ শেষ হবে। এর ফলে ইরাবতীর যে জল এতদিন পাকিস্তানে গিয়ে অপচয় হত, তা এখন ভারতের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলার খরাপ্রবণ কৃষিজমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘকাল থমকে থাকা এই প্রকল্পটি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “আমাদের কাছে কান্দি এলাকার মানুষের প্রয়োজন সবার আগে। পাকিস্তানের জন্য অতিরিক্ত জল নষ্ট করার বিলাসিতা ভারত আর দেখাবে না।”

এমনিতেই চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তান। তার উপর ভারতের এই জল-কূটনীতি ইসলামাবাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকে চন্দ্রভাগা নদীর উপর ভারতের চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত জলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে আসবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান বারবার ভারতের পিঠে ছুরি মারার চেষ্টা করেছে। মোদী সরকার এবার বুঝিয়ে দিল, ভারত কেবল সীমান্তে গুলি চালায় না, প্রয়োজনে প্রতিবেশীর ভাঁড়ারও শুকিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসে মদত দিলে দ্বিপাক্ষিক কোনও চুক্তিই ভারত মানতে বাধ্য নয়। চুক্তির শর্ত মেনেই ভারত তার প্রাপ্য জলের আর একটিও বিন্দু নষ্ট হতে দিতে চায় না। জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এই জল ভারতের জন্য অক্সিজেন হিসাবে কাজ করবে।

পাকিস্তান যদি মনে করে থাকে ভারতের রক্ত ঝরিয়ে তারা ভারতেরই সম্পদ ভোগ করবে, তবে শাহপুর কান্দি বাঁধ তাদের সেই ভুল ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ৩১ মার্চের পর ইরাবতীর জল যখন পাকিস্তানের বদলে জম্মুর তৃষ্ণার্ত জমিতে পৌঁছবে, সেটাই হবে পহেলগাঁওয়ের শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *