০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ এনসিটি ইজারা ইস্যুতে লাগাতার ধর্মঘটে বাংলাদেশের বড় বন্দর, অচলাবস্থার আশঙ্কা
বাংলাদেশবাংলাদেশ

এনসিটি ইজারা ইস্যুতে লাগাতার ধর্মঘটে বাংলাদেশের বড় বন্দর, অচলাবস্থার আশঙ্কা

Share
Share

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর DP World-কে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটে নামছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দু’দিন পরই ফের অচলাবস্থার শঙ্কায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

[TECHTARANGA-POST:6327]

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। এর আগের রাতেই স্কপ নেতারাও একই হুঁশিয়ারি দেন।


চার দফা দাবি-

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—

এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান-কে অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, চার্জশিট) প্রত্যাহার করতে হবে।

শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন-এর আশ্বাসে রমজান ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দেন—যাকে তারা ‘অনৈতিক’ ও ‘আগুন নিয়ে খেলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

অর্থনীতিতে ধাক্কার আশঙ্কা

রবিবার থেকে ধর্মঘট শুরু হলে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিজাত তৈরি পোশাকবাহী কনটেইনার খালাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা ধর্মঘটে জেটিতে জাহাজ জট ও ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিন শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে; শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি ডেমারেজ গুনতে হবে। রমজান সামনে থাকায় নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা।

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, “এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের ওপর থেকে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বন্দরে কোনও কাজ চলবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles