ঢাকা: ফের বাংলাদেশের কারাগারে আওয়ামী লিগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা , দেশজুড়ে চাঞ্চল্য। এবার সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে মারা গেছেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাও। অভিযোগ, বন্দি অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যার দায় এড়াতে পারে না মুহাম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
[TECHTARANGA-POST:6311]
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালেই অসুস্থ হয়ে পড়লে রমেশ চন্দ্র সেনকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রমেশ চন্দ্র সেন গত ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ কর্তৃক আটক হন। আদালতের মাধ্যমে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে এবং পরদিন ১৭ আগস্ট তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগার-এ স্থানান্তর করা হয়। তিনি হত্যা-সহ মোট তিনটি মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দি ছিলেন।
এই মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা জানা সত্ত্বেও কেন বন্দি অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ইউনুস সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবন্দিদের প্রতি অবহেলার একটি ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত।
[TECHTARANGA-POST:6305]
দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. ফরহাদ সরকার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্ম রমেশ চন্দ্র সেনের। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে শিক্ষালাভ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ—বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দমন করতে গিয়ে কারাগারকে কার্যত মৃত্যুকূপে পরিণত করেছে ইউনুস সরকার। এই মৃত্যুর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।
[TECHTARANGA-POST:6304]
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের কারাগার ও বিভিন্ন বাহিনীর হেফাজতে ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।
Leave a comment