কলকাতা: রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য হানা রুখতে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। বারাসতে আক্রান্তের হদিশ মেলার পর এবার কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানার বাদুড়দের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হল আরটি-পিসিআর পরীক্ষা।
চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার — এই দু’দিন ধরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল রিসার্চের একটি বিশেষজ্ঞদল বাদুড়দের রক্ত ও লালার নমুনা সংগ্রহ করেছে। দর্শকদের জন্য চিড়িয়াখানার দরজা খোলার আগেই (সকাল ৯টার মধ্যে) অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা তৃপ্তি সাহা জানিয়েছেন, “বিশেষজ্ঞ দলটি বাদুড়দের থেকে সোয়াব নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সমস্ত বিধিনিষেধ মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।”
[TECHTARANGA-POST:6143]
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই স্বাস্থ্যকর্মী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নিপা একটি ‘নোটিফিয়েবল ডিজিজ’ বা বিজ্ঞাপিত রোগ। যা কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক। এই সংক্রমণের উৎস খুঁজতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাদুড়দের পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেহেতু কলকাতায় একমাত্র আলিপুর চিড়িয়াখানাতেই বাদুড় সংরক্ষণের নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে, তাই স্বাস্থ্য দফতর এই স্থানটিকেও নজরদারির আওতায় এনেছে।
রাজ্যের মুখ্য বন্যপ্রাণ ওয়ার্ডেন সন্দীপ সুন্দরিয়াল জানিয়েছেন, বাদুড় ধরার জন্য বন দফতরের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্য দফতরের আবেদনের ভিত্তিতে সেই অনুমতি দ্রুত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই পরীক্ষাটি আইসিএমআর এবং এনআইভি যৌথভাবে পরিচালনা করছে। আলিপুর চিড়িয়াখানায় আগাম সতর্কতামূলক নানা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তাই, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
মধ্যমগ্রাম, বারাসত এবং বসিরহাটের পর এবার নজর দেওয়া হচ্ছে নদিয়া জেলার দিকে। বিশেষজ্ঞ দলটির নদিয়া সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। আলিপুর চিড়িয়াখানার বাদুড়দের পরীক্ষার রিপোর্ট আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হাতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে আসার পরেই বোঝা যাবে শহরের এই বাদুড়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ কিনা।
Leave a comment