০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর আর্জি, জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট
পশ্চিমবঙ্গ

বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর আর্জি, জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট

Share
Share

কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু এবং বিহারে আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্থার জোড়া ঘটনা কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। তার জেরে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। এলাকায় শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে সেখানে সেনা বা আধাসেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাস এই মামলাটি গ্রহণ করেছে।

আবেদনকারী আইনজীবীর দাবি, গত শুক্রবার থেকে বেলডাঙা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক হিংসা ও ভাঙচুর চলেছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন এবং চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ কর্মসূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই খবর এলাকায় পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার থেকে শুরু হয় দফায় দফায় বিক্ষোভ ও অবরোধ। বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশনে রেলগেট ভাঙচুর করে এবং রেললাইনে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। এর ফলে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রশাসনের তরফে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রবিবার দুপুর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই মিম নেতা মতিউর রহমানসহ প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট থমথমে। হাইকোর্ট সূত্রে খবর, শুনানিতে রাজ্য সরকারকে জানাতে হতে পারে যে এলাকায় শান্তি ফেরাতে আর কী কী অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *