০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ গ্রেফতার হতে পারেন প্রতীক জৈন? রাজ্যকে হলফনামার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
পশ্চিমবঙ্গ

গ্রেফতার হতে পারেন প্রতীক জৈন? রাজ্যকে হলফনামার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Share
Share

প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এফআইআর মামলায় বড়সড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে একদিকে যেমন ইডি আধিকারিকদের রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তেমনই সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আইপ্যাকের প্রতীক জৈনের জন্য রক্ষাকবচের আবেদন করা হলেও, এখনই তাতে সবুজ সংকেত দেয়নি আদালত।

এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ইডি আধিকারিকরা যে পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন এবং যার ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল, সেই এফআইআরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হলো। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

আদালতে রাজ্যের পুলিশকর্তাদের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। ইডি আধিকারিকরা রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সিংভি দাবি তোলেন, প্রতীক জৈন এবং অন্যান্যদেরও একই রকম রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। তাঁর যুক্তি ছিল, যাতে তাঁদের এখনই গ্রেফতার করা না যায়, সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করুক আদালত। তবে আদালত এখনই সেই আরজিতে সরাসরি কোনও নির্দেশ না দিয়ে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে বলেছে।

মামলাটির সূত্রপাত প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির চালানো একটি তল্লাশি অভিযান থেকে। একই দিনে প্রতীক জৈনের সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) অফিসেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। চাঞ্চল্যকরভাবে, দুটি জায়গাতেই সশরীরে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশি চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তিনি নিজের সঙ্গে করে বের করে নিয়ে চলে যান। এরপরই ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। আজকের শুনানিতে এই বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে।

এদিন শীর্ষ আদালতে এই মামলাকে কেন্দ্র করে চাঁদের হাট বসেছিল। একদিকে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষে ছিলেন তুষার মেহতা। যেহেতু এই মামলায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পার্টি’ করা হয়েছে, তাই রাজনৈতিক এবং আইনি— উভয় দিক থেকেই এই মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, মামলাটির পরবর্তী শুনানির আগে সব পক্ষকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে। আপাতত ইডি আধিকারিকরা আইনি স্বস্তি পেলেও, প্রতীক জৈনের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা ঝুলে রইল হলফনামা জমার পরবর্তী শুনানির ওপর।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *