০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অধীরের মেগা পদযাত্রা: রাজ্য ও কেন্দ্রকে বিঁধে ঘর গোছাতে মরিয়া ‘মুর্শিদাবাদের রবিনহুড’
পশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গভারতবর্ষ

সীমান্তে অধীরের মেগা পদযাত্রা: রাজ্য ও কেন্দ্রকে বিঁধে ঘর গোছাতে মরিয়া ‘মুর্শিদাবাদের রবিনহুড’

Share
Share

মুর্শিদাবাদ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বুধবার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন জলাঙ্গি ব্লকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ নীতির বিরুদ্ধে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক পদযাত্রা নেতৃত্ব দিলেন তিনি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকের ভিড় উপচে পড়ে সীমান্ত এলাকার রাস্তায়।

  

জলাঙ্গি ব্লকের ভাদুরিযাপাড়া মোড় থেকে শুরু হয় এই পদযাত্রা। ফরিপুর পর্যন্ত দীর্ঘ চার কিলোমিটার পথ হেঁটে অতিক্রম করেন অধীর চৌধুরী। দীর্ঘ এই মিছিলে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি এবং দলীয় পতাকায় ঢাকা পড়ে যায় রাস্তা। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মূলত সীমান্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং উভয় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

পদযাত্রা শেষে ফরিপুরে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে দীর্ঘ বক্তৃতায় রাজ্য ও কেন্দ্র— উভয় সরকারকেই তীব্র আক্রমণ করেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল:

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও নিরাপত্তা: বিএসএফের নজরদারি এলাকায় সীমান্তবাসীর সমস্যা এবং কেন্দ্রের উদাসীনতা।

রাজ্য সরকারের দুর্নীতি: রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা।

পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা: ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া মুর্শিদাবাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারের নিশ্চুপ থাকাকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।

সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মুর্শিদাবাদের মতো নিজেদের দুর্গে জনসমর্থন অটুট রাখতে অধীরের এই কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় যেখানে অনুপ্রবেশ বা সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে লড়াই চলে, সেখানে অধীরের এই বিশাল মিছিল কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে। এদিন সভা মঞ্চ থেকে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দিল্লির কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের চেয়েও মুর্শিদাবাদের মানুষের হকের লড়াই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *