০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ আকাশে বাড়ছে ঢাকার পেশিশক্তি: তুরস্কের অত্যাধুনিক ‘অ্যানকা’ ড্রোন ও ‘অ্যাটাক’ হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ

আকাশে বাড়ছে ঢাকার পেশিশক্তি: তুরস্কের অত্যাধুনিক ‘অ্যানকা’ ড্রোন ও ‘অ্যাটাক’ হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ

Share
Share

ঢাকা: সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড়সড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী (BAF)। তুরস্কের তৈরি অত্যাধুনিক ৮টি ‘টি-১২৯ অ্যাটাক’ (T129 ATAK) হেলিকপ্টার এবং ‘অ্যানকা’ (ANKA) সিরিজের ড্রোন কেনার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে তুরস্কের শীর্ষ সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এই জল্পনাকেই নিশ্চিত করল।

বুধবার সকালে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘তার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (TAI)-এর একটি প্রতিনিধি দল বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন তুরস্কের বিপণন প্রধান বার্তান কুর্ট এবং ঢাকায় নিযুক্ত তুর্কি দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাচে কর্নেল হিলমি বারিস ইলদিজ। এর পাশাপাশি তুরস্কের ড্রোন ও হেলিকপ্টার কর্মসূচির বিশেষজ্ঞরাও গত দুদিন ধরে বাংলাদেশের পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কারিগরি বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।

কেন ‘অ্যাটাক’ হেলিকপ্টার ও ‘অ্যানকা’ ড্রোন?

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিজেদের বহরে এমন কিছু যুদ্ধাস্ত্র যুক্ত করতে চাইছে যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার: এটি তুরস্ক এবং ইতালির যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি। অত্যন্ত দুর্গম এলাকা এবং তপ্ত আবহাওয়ায় এটি নিখুঁতভাবে অপারেশন চালাতে সক্ষম। এতে রয়েছে ২০ মিলিমিটারের গান সিস্টেম এবং ১২০০ কেজি পর্যন্ত মারণাস্ত্র বহনের ক্ষমতা। রাতে দেখার জন্য এতে আছে ‘নাইট ভিশন’ ও হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে সিস্টেম।

অ্যানকা (ANKA) ড্রোন: এটি একটি ‘মেল’ (MALE) বা মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম ড্রোন। এই ড্রোন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও হামলা চালাতে পারে। এর উন্নত রাডার ব্যবস্থা শত্রু শিবিরের অবস্থান মুহূর্তেই শনাক্ত করতে সক্ষম।

গত কয়েক বছরে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছরই বিমানবাহিনী প্রধান তুরস্ক সফর করে একাধিক কারখানা পরিদর্শন করেছিলেন। এবার তুরস্কের প্রতিনিধিদের ঢাকা সফর প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ কেবল সরঞ্জাম কিনছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণের দিকেও এগোচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ড্রোন ও হেলিকপ্টারগুলো ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উপকূলীয় এলাকায় নজরদারির জন্য ‘অ্যানকা’ ড্রোন অত্যন্ত কার্যকর হবে। এছাড়া সম্প্রতি ইতালি থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার পাশাপাশি তুরস্কের এই সরঞ্জামগুলো বাংলাদেশের বিমানবাহিনীকে এশিয়ায় এক আধুনিক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles