ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। দলের নেতাদের একাংশ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই পরিস্থিতিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তায় দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে নতুন লড়াইয়ের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ছেড়ে চলে যাওয়া নেতাদের ‘বেইমান’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দলের প্রতীক দেখে মানুষ ভোট দিয়েছেন। তাই যারা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য তিনি মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
[TECHTARANGA-POST:10979]
মমতা লেখেন, “১৯৯৭ সালে আমি একা ছিলাম। তখনও লড়াই করেছি। আজও সেই লড়াই করার ক্ষমতা আমার আছে। ২০২৬ সালেও শূন্য থেকে শুরু করতে পারি।” বুধবারই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতার ঘরে যাওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “অভিষেককে বাহানা করা হচ্ছে। ওর ভুল-ত্রুটি থাকলে তা অনেক আগেই মাফ হয়ে গিয়েছে। সে লড়াই করছে, আগামী দিনেও লড়বে।” এদিন নাম না করে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে আরও একবার তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ভয় দেখিয়ে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নোটিসের চাপ তৈরি করে অনেককে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকী এক নেতা দল ছাড়ার আগেই তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ইডির তলব আসবে বলে তিনি জানতে পেরেছিলেন বলেও দাবি করেন মমতা।
[TECHTARANGA-POST:10978]
এরপরই তিনি ফিরে যান দলের শুরুর দিনে। স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর মাত্র এক মাসের মধ্যে নির্বাচনে লড়াই করতে হয়েছিল। তারপর নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও তৃণমূল এগিয়েছে। তাঁর কথায়, “২০০৪ সালে আমি কার্যত একা হয়ে গিয়েছিলাম। তবু লড়াই থামাইনি। আজও সেই লড়াই করার শক্তি রয়েছে। যারা যাওয়ার, তারা চলে যাক।” এদিন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। তিনি জানান, এ বছরের শহিদ সমাবেশ হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। আদালতের বেঁধে দেওয়া সমস্ত শর্ত মেনেই সভা হবে। পাশাপাশি তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছেন।
Leave a comment