০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন ও কোচিংয়ে দেদার রোজগারে এবার বিরাট কোপ!
ভারতবর্ষশিক্ষাঙ্গন

শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন ও কোচিংয়ে দেদার রোজগারে এবার বিরাট কোপ!

Share
শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন ও কোচিংয়ে দেদার রোজগারে এবার বিরাট কোপ!
ছবি--প্রতীকী
Share

পটনা: সরকারি স্কুলের চাকরি বজায় রেখে বাইরে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে মোটা টাকা কামানোর দিন এবার শেষ হতে চলেছে। যে সমস্ত সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে পড়ানোর চেয়ে নিজেদের প্রাইভেট ব্যাচ বা বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশি সময় দেন, তাঁদের অভ্যাস বন্ধ করতে এবার এক নজিরবিহীন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করল বিহার সরকার। নতুন নিয়মে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা আর কোনওভাবেই আলাদা করে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে কোনও বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে শিক্ষকদের সাফ বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন শুধুমাত্র স্কুলেই নিজেদের পুরো ডিউটি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। এই নিয়ম অমান্য করে কেউ গোপনে টিউশন চালালে তাঁর বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।

[TECHTARANGA-POST:10095]

আসলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, সরকারি স্কুলগুলিতে পড়াশোনার মান তলানিতে ঠেকলেও শিক্ষকদের নিজস্ব কোচিং সেন্টারে কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, শিক্ষকরা যাতে অন্য কোথাও মাথা না ঘামিয়ে শুধুমাত্র সরকারি স্কুলগুলিতেই পড়াশোনার মানোন্নয়নে নিজেদের পুরো জোর দেন এবং স্কুলের নির্দিষ্ট সময়ে সকল পড়ুয়াদের জন্য সবসময় উপস্থিত থাকেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সরকারের এই কড়া নির্দেশ যাতে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুলে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়, তার জন্য জেলা শিক্ষা দফতরকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও শিক্ষক গোপনে কোনও কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউশন চালাচ্ছেন কি না, তা খুঁজে বের করতে আকস্মিক নজরদারি ও তল্লাশি চালানো হবে বলেও জানা যাচ্ছে। যদি কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই নিয়ম ভাঙার অকাট্য প্রমাণ মেলে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন বা বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হবে।

[TECHTARANGA-POST:10094]

বিহারে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাকে খোলনলচে বদলে ফেলে তাকে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে এবং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সার্বিক মান বাড়াতে এখন বিশেষ জোর দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নতুন সরকার। এই মহৎ উদ্দেশ্যে একের পর এক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে স্কুলগুলিতে পঠনপাঠনের পরিবেশ অনেকটাই ফিরবে এবং গরিব ও মধ্যবিত্ত ঘরের পড়ুয়ারা যারা চড়া ফিস দিয়ে কোচিং সেন্টারে যেতে পারে না, তারা স্কুলেই সঠিক শিক্ষা পাবে। তবে সরকারের এই ফতোয়ার পর রাজ্যের হাজার হাজার প্রাইভেট টিউটর ও শিক্ষক সংগঠনের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি এড়িয়ে শিক্ষকরা তাঁদের টিউশন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারেন নাকি সত্যিই বিহারের স্কুল শিক্ষার ভোল বদলে যায়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *