০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা Custodial Death: থানার শৌচাগারে গলায় ফাঁস! চন্দ্রকোণায় পুলিশ হেফাজতে বন্দির রহস্যমৃত্যুতে তুঙ্গে চাঞ্চল্য
কলকাতাপশ্চিম মেদিনীপুরপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

Custodial Death: থানার শৌচাগারে গলায় ফাঁস! চন্দ্রকোণায় পুলিশ হেফাজতে বন্দির রহস্যমৃত্যুতে তুঙ্গে চাঞ্চল্য

Share
Custodial Death: থানার শৌচাগারে গলায় ফাঁস! চন্দ্রকোণায় পুলিশ হেফাজতে বন্দির রহস্যমৃত্যুতে তুঙ্গে চাঞ্চল্য
পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যু ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য। ছবি-সংগৃহীত
Share

চন্দ্রকোণা: আরও এক বার পুলিশের নজরদারি এবং হেফাজতের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার শৌচাগার থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হল এক ধৃতের মৃতদেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়ন ছড়ায় এলাকা জুড়ে। মৃত যুবকের নাম রাহুল রুইদাস। চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ। ঘাটাল মহকুমা আদালতে পেশ করার পর বিচারক তাঁকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু কাস্টডিতে থাকাকালীনই শৌচাগার থেকে তাঁর গলায় প্যান্ট পেঁচানো লাশ উদ্ধার হয়। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

যদিও পুলিশের দাবি রাহুল আত্মঘাতী হয়েছেন, কিন্তু সেই তত্ত্ব পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, হেফাজতেই অমানুষিক শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে রাহুলকে। মৃতের আত্মীয়দের দাবি, পুলিশ অফিসারদের বক্তব্যেই রয়েছে বিস্তর অসঙ্গতি। এক আধিকারিক বলছেন প্যান্টের ফাঁসে আত্মহত্যা, অন্য জন দাবি করছেন মাথা ঠুকে মৃত্যুর কথা। একটি প্যান্ট ব্যবহার করে কী ভাবে এক জন আত্মহত্যা করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

থানায় বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে এই প্রথম নয়। সম্প্রতি হালিশহর থানাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তোলাবাজি ও নানা বেআইনি কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওয়াটকে। আদালত তাঁকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর হালিশহর থানার লকআপে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিরজুর পরিবারেরও অভিযোগ ছিল, পুলিশের বেধড়ক মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পরবর্তীকালে বিরজু কেওয়াটের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরজুর মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা আনতে ইতিমধ্যেই কেসটির দায়িত্ব সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সিআইডি তদন্তের এই নির্দেশে আশার আলো দেখছেন বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশকর্মীরা শাস্তি পাবেন। তবে একের পর এক থানায় এভাবে কাস্টডিয়াল ডেথের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা মহল থেকে সোচ্চার হচ্ছেন মানবাধিকার কর্মীরা। চন্দ্রকোণার এই ঘটনার পর পুলিশ কাস্টডিতে বন্দিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিশ্ছিদ্র, তা নিয়ে ফের রাজ্যজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:12608]

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *