দার্জিলিং: পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমার আনন্দ উদযাপনের মুহূর্ত যে এমন হাড়হিম করা ট্র্যাজেডিতে পরিণত হবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি চোপড়ার তরুণ দম্পতি সমীর দাস ও নিকিতা সাহা। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পর মাত্র দু’মাস আগে চার হাত এক হয়েছিল তাঁদের। প্রেমের এই নতুন অধ্যায় উদযাপন করতে দিনকয়েক আগেই উত্তর ২৪ পরগনার চোপড়া থেকে পাহাড়ি গ্রাম সিটংয়ের এক সুদৃশ্য হোমস্টেতে যান তাঁরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বারবিকিউ বানানোর সময় হোমস্টে কর্মীদের চরম অমার্জনীয় গাফিলতিতে ঘটে গেল নারকীয় দুর্ঘটনা। আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে এখন জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়ছেন ৬০ শতাংশ দগ্ধ হওয়া তরুণী নিকিতা।
[TECHTARANGA-POST:12727]
ঘটনার দিন রাতে হোমস্টের উন্মুক্ত বারান্দায় বসে বারবিকিউ উপভোগ করছিলেন নবদম্পতি। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, বারবিকিউ তৈরি হওয়ার সময় কর্মী কিছু একটা তরল ঢালতেই মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। নিমেষেই সেই আগুনের শিখা গ্রাস করে পাশে বসে থাকা নিকিতাকে। স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের টি-শার্ট খুলে শরীরের আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন স্বামী সমীর, কিন্তু ততক্ষণে তরুণীর শরীর গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে সমীর নিজেও অগ্নিদগ্ধ হন। পরিবারের মারাত্মক অভিযোগ, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময় হোমস্টে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ন্যূনতম কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি, এমনকি ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য গাড়ি পৌঁছাতেও লেগে যায় দীর্ঘ ৪০ মিনিট।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকিতাকে শিলিগুড়ির একটি নামজাদা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সমীর দাসের দাবি অনুযায়ী, আগুন উসকে দিতে রান্নার তেলের বদলে ওই কর্মী ভুল করে কেরোসিন বা তারপিন তেল ঢেলে দিয়েছিল। ঘটনার ভয়াবহতা ও সত্যতা মেনে নিয়ে ওই হোমস্টের মালিক নিহাল আইয়ান শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে, চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে তাঁদের কর্মী ভুলবশত রান্নার তেলের জায়গায় কেরোসিন ঢেলে ফেলেছিল। পাহাড়ে সুরক্ষাবিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের বিরুদ্ধে কার্শিয়াং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আক্রান্তের পরিবার। পাহাড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেওয়া এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
Leave a comment