০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা স্পিকারের সামনেই চরম ধস্তাধস্তি-বাকবিতণ্ডা! বিধানসভাকে ‘কলঙ্কজনক’ বলায় সটান স্পিকারের ডায়াসে কুণাল, তেড়েফুঁড়ে উঠলেন বিধায়ক
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

স্পিকারের সামনেই চরম ধস্তাধস্তি-বাকবিতণ্ডা! বিধানসভাকে ‘কলঙ্কজনক’ বলায় সটান স্পিকারের ডায়াসে কুণাল, তেড়েফুঁড়ে উঠলেন বিধায়ক

Share
Share

কলকাতা: বিধানসভার বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রইল বেনজির অশান্তি ও উত্তেজনার আবহ! বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন অধিবেশন শুরু হতেই গতকালের তুলকালাম কাণ্ড নিয়ে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলে তিনি কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন যে, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ‘কলঙ্কজনক’ এবং এ বিষয়ে আজ আর কোনও আলোচনা হবে না। স্পিকারের এই মন্তব্যের পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সটান স্পিকারের ডায়াসের সামনে গিয়ে উপস্থিত হন কুণাল। স্পিকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, বিধানসভায় রাজনৈতিক বাদানুবাদ বা মার্শাল ডেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তাহলে গতকালের ঘটনাকে কেন ‘কলঙ্কজনক’ বলা হলো?

[TECHTARANGA-POST:11203]

বুধবার নাম থাকা সত্ত্বেও বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার জেরে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি ও মার্শাল ডেকে সাসপেন্ড করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ফের সেই একই ইস্যু ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অন্দরমহল। স্পিকার রথীন্দ্র বোস কুণালকে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি নিজের দাবিতে অনড় থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেদিনের মতো ফের তাঁর চারপাশে এসে দাঁড়ান মার্শালরা, যদিও এদিন তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়নি। নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার পরেও কুণাল একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি অধিবেশন চলাকালীন বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গেও তাঁর তুমুল বচসা বাঁধে। সূত্রের খবর, দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানকে কুণাল সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁকে বলতে না দিলে তিনি কাউকেই বলতে দেবেন না।

[TECHTARANGA-POST:11202]

অধিবেশন মুলতুবির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন কুণাল ঘোষ। বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেন, বকলেস পরা বিরোধীরা নিজেদের স্বার্থে বিজেপির দালালি করছে আর তাঁরা কথা বলছেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে। বিজেপি চায় না যে তিনি বা শক্তিশালী কণ্ঠগুলি বিধানসভায় মুখ খুলুক। এরপর স্পিকারের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বিস্ফোরক তোপ দেগে বলেন, রথীনবাবু ব্যক্তিগতভাবে ভদ্রলোক হলেও বিধানসভায় যা চলছে, তাতে এটা ওনার জন্যই এক কলঙ্ক হয়ে থাকবে এবং উনি দুই মাসও ঠিকমতো সভা চালাতে পারছেন না। সব মিলিয়ে, শাসক দলের অন্দরের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও বিধানসভার অচলাবস্থায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজনৈতিক মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *