০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা দূরত্ব বাড়িয়ে কাকলির ইস্তফা গ্রহণ তৃণমূলের, বারাসত সাংগঠনিক জেলার রাশ এবার তাপসের হাতে!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

দূরত্ব বাড়িয়ে কাকলির ইস্তফা গ্রহণ তৃণমূলের, বারাসত সাংগঠনিক জেলার রাশ এবার তাপসের হাতে!

Share
দূরত্ব বাড়িয়ে কাকলির ইস্তফা গ্রহণ তৃণমূলের, বারাসত সাংগঠনিক জেলার রাশ এবার তাপসের হাতে!
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারাসত সংসদীয় বা সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে বিদায়ী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা গ্রহণ করে নিল তৃণমূল নেতৃত্ব। শুধু ইস্তফা গ্রহণই নয়, কাকলির পাঠানো চিঠির ঝাঁঝালো বয়ানের পর দল তাঁর সঙ্গে সমস্তরকমভাবে দূরত্ব বাড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। একইসঙ্গে বারাসত সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি হিসেবে রাজারহাট-নিউটাউনের বর্ষীয়ান নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছে জোড়াফুল শিবির।

[TECHTARANGA-POST:9492]

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে আদি বনাম নব্য এবং শীর্ষ নেতৃত্বের রণকৌশল নিয়ে বারুদ জমছিল। রবিবার সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে জেলা সভাপতির পদ ছাড়েন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতিকে পাঠানো চিঠিতে পরাজয়ের ‘নৈতিক দায়’ নেওয়ার পাশাপাশি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চিরকুট বা বার্তা যোগ করেছিলেন বারাসতের বিদায়ী সাংসদ। 

[TECHTARANGA-POST:9408]

সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।” মূলত ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্পোরেট রাজনীতির ঘরানাকে নিশানা করেই যে কাকলির এই তোপ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

[TECHTARANGA-POST:9478]

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক চিঠির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার কড়া প্রতিক্রিয়া শোনা গেছে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বারাসতের সাংসদের নাম না করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘যাঁরা জিতলে থাকব, হেরে গেলে চলে যাব — এমন কর্মীর দরকার নেই।’ দলনেত্রীর এই কড়া বার্তার পরই আর সময় নষ্ট না করে কাকলির ইস্তফাপত্র মঞ্জুর করে তাঁর জায়গায় তাপস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেয় তৃণমূল ভবন।

[TECHTARANGA-POST:9452]

রাজনৈতিক মহলের মতে, কাকলি ও তৃণমূলের এই সুদীর্ঘ সম্পর্কে ফাটল ধরার সূত্রপাত অবশ্য কয়েক দিন আগেই হয়েছিল। সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

[TECHTARANGA-POST:9409]

সংসদীয় পদ খোয়ানোর পরই সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত অভিমানী পোস্ট করেছিলেন কাকলি। তার ঠিক ন’দিনের মাথায় জেলা সভাপতির পদ থেকে এই গণইস্তফা এবং অতি সম্প্রতি তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা (Central Security) পাওয়ার খবর জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর জোড়াফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ যখন দলবদলের দিকে ঝুঁকছেন, তখন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *