০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন ডাল ও বাদামে চড়া শুল্ক কেন? ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে দরবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের
যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ডাল ও বাদামে চড়া শুল্ক কেন? ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে দরবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

Share
Share

দিল্লি: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য সংঘাতের আবহে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। আমেরিকার উৎপাদিত ডাল শস্য এবং পেকান বাদামের উপর ভারত যে চড়া আমদানি শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে, তা কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ভারতের এই রক্ষণশীল শুল্ক নীতির কারণে আমেরিকার কৃষকরা বিশাল এক বাজার হারাচ্ছেন।

সূত্রের খবর, উত্তর ডাকোটা এবং মন্টানার মতো প্রদেশের সেনেটররা প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডাল ব্যবহারকারী দেশ। অথচ মার্কিন ডাল শস্যের উপর ভারত চড়া শুল্ক আরোপ করে রাখায় সেই বাজারে প্রবেশ করা তাঁদের দেশের কৃষকদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে কড়াইশুঁটি, মসুর ডাল এবং ছোলার মতো পণ্যে ভারতের বিশাল চাহিদা থাকলেও আমেরিকার রফতানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

একইভাবে মার্কিন পেকান বাদামের ক্ষেত্রেও ভারতের বর্তমান ৩০ শতাংশ শুল্ককে ‘অত্যন্ত বেশি’ বলে বর্ণনা করেছেন আইনপ্রণেতারা। যদিও গত বছর ভারত এই শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়েছিল, তবুও মার্কিন বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথে একটি বড় অন্তরায়।

উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভারতের মধ্যে শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। ট্রাম্প ভারতের বিভিন্ন পণ্যের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তা কার্যকরও হয়েছে। পাল্টা হিসাবে ভারতও মার্কিন কৃষিপণ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুক্তি হল, ভারত বিশ্বের মোট ডাল ভোগের প্রায় ২৭ শতাংশ এককভাবে করে। চড়া শুল্কের কারণে আমেরিকার কৃষকরা এই বিপুল চাহিদা মেটানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই, দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে এই বাধা দূর করা জরুরি।

আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে হতে চলা উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্যিক বৈঠকে এই বিষয়টি অন্যতম প্রধান আলোচ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর শুল্ক কমানোর জন্য কতটা চাপ সৃষ্টি করে, এখন সেটাই দেখার। তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *